ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতি, স্মার্ট ই-কমার্স ও উদ্যোক্তাবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা।
১. প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত রূপান্তরশীল একটি ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে প্রবেশ করেছে। গত এক দশকে দেশের ই-কমার্স, এফ-কমার্স, ফিনটেক, স্মার্ট লজিস্টিকস এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ ‘আইসিটি অ্যাপ্লিকেশন অ্যান্ড ইউজেজ সার্ভে’ অনুযায়ী:
এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামো এখন বৃহৎ পরিসরের ডিজিটাল অর্থনীতি পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বর্তমানে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লক্ষাধিক অনলাইন উদ্যোক্তা, কয়েক লক্ষ লজিস্টিকস কর্মী, ফ্রিল্যান্সার, মার্চেন্ট এবং প্রযুক্তি পেশাজীবী ডিজিটাল কমার্স ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
২. বাজার পরিস্থিতি
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসিডিবি (ECDB) এবং পে-নেক্সট-থ্রি-সিক্সটি (PayNXT360)-এর বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিটিআরসি-এর তথ্য অনুযায়ী:
৩. বর্তমান চ্যালেঞ্জ
ই-কমার্স উদ্যোক্তারা এখনো নিম্নলিখিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন:
বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, উচ্চ ইন্টারনেট ব্যবহার থাকা সত্ত্বেও মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারী গত ৩ মাসে অনলাইন কেনাকাটা করেছেন।
৪. ইতিবাচক পদক্ষেপ
সরকার ইতোমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে:
৫. কাঠামোগত সমস্যা
৫ দশমিক ১ শতাংশ জটিল ট্যাক্স ও ভ্যাট কমপ্লায়েন্স
টিআইএন → ট্রেড লাইসেন্স → ভ্যাট/বিআইএন → মাসিক রিটার্ন → ব্যাংকিং কমপ্লায়েন্স
৫.২ উচ্চ ব্যয়
পেমেন্ট গেটওয়ে এমডিআর: ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ শতাংশ
এমএফএস মার্চেন্ট ফি: ১ দশমিক৫ থেকে ১.৮৫ শতাংশ
ডেলিভারি ও রিটার্ন খরচ: ১০ থেকে ১৫ শতাংশ
৫.৩ অসম্পূর্ণ অটোমেশন
৫.৪ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা
৬. নীতিগত প্রস্তাবনা (১০টি)
৭. ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি হবে: ডিজিটাল, উদ্যোক্তানির্ভর, ক্যাশলেস, ডাটাভিত্তিক, বৈশ্বিক বাজারসংযুক্ত।
সবশেষে বলা যায় যে সময় এসেছে ‘রাজস্ব আহরণ’ও ‘উদ্যোক্তা বিকাশ’ এই দুইয়ের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করার। ই-কমার্স এখন স্মার্ট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি।
লেখক: চেয়ারম্যান, যাচাই ডট কম লিমিটেড