জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনবিরোধী কার্যক্রমের কারণে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার (৮ জানুয়ারি) টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে দুর্বলতার পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে কমিশন অনেক ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান নিতে পারছে না। প্রচারণাসহ নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে প্রার্থীরা আচরণবিধি ব্যাপকভাবে লঙ্ঘন করছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো ব্যয়সীমা মানছেন না। এত অনিয়মেও ইসি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।’
টিআইবির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে পরিবেশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠলেও নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতির দায় এড়িয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, দেশের ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এদিকে বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয় থেকে ২১ জন কর্মীকে তুলে নেওয়া বাংলাদেশের সাংবাদিকতার জন্য নেতিবাচক ও মধ্যযুগীয় পন্থা মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমি জোর প্রতিবাদ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছি। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া রাতের বেলা একটি প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীকে তুলে নেওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যে যুক্তিতেই হোক না কেন, এটি বাংলাদেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক ও সহিংসতার দৃষ্টান্ত।’
এ ছাড়া দেড় বছরও উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব দিতে না পারাটা নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও মনে করেন টিআইবি প্রধান।
আর আগে শনিবার (৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘দেশে ভোটের সাংস্কৃতিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন কোনো পক্ষের চাপে নেই, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি। দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এখন যথেষ্ট ভালো আছে। নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ রয়েছে।’