বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় ভারত সফর করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলমান রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ভারতের হাইকমিশনার।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সব পর্যায়ে সংলাপ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ সময় ভারতের লোকসভার স্পিকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, দুই দেশের সংসদ কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করতে পারে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এটিই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। এ সময় বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ও ক্রীড়াক্ষেত্রের অভিজ্ঞতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে নানা টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে আবারও গণতন্ত্রের পথ সুগম হয়েছে।
স্পিকার বলেন, আগে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল সরকারকেন্দ্রিক ছিল। এখন থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখে ‘জনগণকেন্দ্রিক’ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত সরকার দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।