বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়ে এবার বঙ্গভবনের পথে এগোচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শেষ বৈঠকে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেছেন দীর্ঘদিনের এই রাজনীতিক। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি বিদায়ী পোস্ট ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মির্জা ফখরুল লিখেছেন, “প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আজ আপনাদের থেকে সর্বশেষ বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে। আজকে শেষবারের মতো ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের বিশ্বস্ত—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।”
সেই স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও মির্জা ফখরুলের সাবেক ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান টিটো। তবে তার সেই মন্তব্যে শুভেচ্ছা বার্তা ছাড়াও উঠে এসেছে একজন শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার আগে একজন রাজনীতিকের প্রতি প্রত্যাশা।
‘আমার শিক্ষক ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার’ সম্বোধন করে মোস্তাফিজুর রহমান টিটো লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সজ্জন ও গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদ।’ দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে তার মানবিক, গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পরিচয়েরও প্রশংসা করেছেন তিনি।
মন্তব্যে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার ত্যাগ, সাহস ও ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণকে গৌরবের বলে উল্লেখ করেছেন।
আপনার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপ হোক বৈষম্যের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে; হোক জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার প্রত্যয়। দেশের অখণ্ডতা, সার্বভৌমত্ব ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আপনার ভূমিকা হোক দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও ইতিহাসের কাছে গৌরবময়।
মোস্তাফিজুর রহমান টিটোর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব পালনের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি দৃঢ় ও নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তার সাবেক এই ছাত্র।
সবশেষে শিক্ষক হিসেবে মির্জা ফখরুলের প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট থাকার কথা জানিয়ে তার নতুন দায়িত্ব ও পথচলার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন টিটো। মহান আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতা, প্রজ্ঞা ও শক্তি দেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে তার ভূমিকা আরও সমৃদ্ধ করেন—এমন প্রার্থনাও করেছেন তিনি।
এদিকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে আবারও সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে হচ্ছে (২০ আগস্ট)। যেখানে জাতীয় সংসদের সদস্যরাই প্রত্যক্ষ ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
এ নির্বাচনে জাতীয় সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত। নির্বাচনে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।