দেশে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও ১৪টি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এদিকে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। সিঙ্গাপুরভিত্তিক আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড আগামী ১-২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এলএনজির এই কার্গো সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ২৩.৯৩ মার্কিন ডলার। এটি চলতি বছরের ৪৪তম কার্গো।
অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে কার্গো কেনা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কানাডার ‘কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন’ (সিসিসি) থেকে ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন’ থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আনা হবে। উভয় ক্ষেত্রে প্রতি টনের দাম পড়বে ৩৭৭.৬৩ মার্কিন ডলার। এছাড়া সৌদি আরবের ‘এসএবিআইসি অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি’ থেকে প্রতি টন ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যার মোট ব্যয় ২১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার বেশি।
এছাড়া ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার কোম্পানির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাপানের ‘এমএইচআই’ থেকে ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও এক বছরের টেকনিক্যাল সার্ভিস নেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) জন্য ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইউরিয়া সার আমদানির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডে’র সঙ্গে বিসিআইসির চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।