ঢামেকে ফের উত্তেজনা
প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি ও নতুন কর্মকর্তার যোগদানকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দুটি পক্ষ।
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামানের পদত্যাগের দাবিতে তার কক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের বিচার দাবিতে পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ।
যেখান থেকে শুরু
ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একই সময়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে ঢামেকে বদলি করা হয়।
তবে অভিযোগ ওঠে, নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ঢামেকে যোগদান করতে পারছেন না। অন্যদিকে বদলি হওয়া রেজাউল ইসলামও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি অংশ পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেন। এ নিয়েই ধীরে ধীরে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
তালা দেওয়ার চেষ্টা, এরপর মারধরের অভিযোগ
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। চিকিৎসকদের একটি পক্ষ তার কক্ষে তালা দেওয়ার উদ্যোগ নিলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হানিফের কাছে তালা চাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, তালা দিতে সহযোগিতা না করায় হানিফকে মারধর করা হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা ও কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ মিছিল করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
আজ সারাদিনে যা ঘটল
মঙ্গলবার সকালে হানিফকে মারধরের অভিযোগের বিচার চেয়ে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে প্রশাসনিক ব্লকে যান কর্মচারীদের একটি অংশ। একই সময়ে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি দল পরিচালকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। দুপুর ১২টার দিকে তারা পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের স্লোগান ছিল ‘দফা এক, দাবি এক, পরিচালকের পদত্যাগ।’
এরপর পরিচালকের কক্ষের ভেতরে চিকিৎসক শিক্ষার্থীদের অবস্থান এবং বাইরে কর্মচারীদের অবস্থানের কারণে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কেন পরিচালকের পদত্যাগ দাবি?
চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পরিচালকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক বদলি ও যোগদান নিয়ে তার ভূমিকা এবং অতীতের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষের কথা বলা হচ্ছে।
চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের দাবি, বর্তমান পরিচালক দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিবেশ স্বাভাবিক হচ্ছে না। তাই তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে কর্মচারীদের অবস্থান সরাসরি পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে নয়। তাদের মূল দাবি সহকর্মী হানিফকে মারধরের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার।
পাল্টাপাল্টি অবস্থানে প্রশাসনিক ব্লক
বর্তমানে ঢামেকের প্রশাসনিক ব্লকে কার্যত দুই পক্ষের অবস্থান দেখা যাচ্ছে। একদিকে পরিচালকের কক্ষে অবস্থান করছেন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, পরিচালক পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান চলবে।
অন্যদিকে পরিচালকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছেন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, কর্মচারীকে মারধরের ঘটনার বিচার করতে হবে। দুই পক্ষের অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক ব্লকে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও দেখা গেছে।
চিকিৎসা সেবা কি বন্ধ?
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢামেক হাসপাতালের পুরো চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত নয়। মূল উত্তেজনা হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লক ও পরিচালকের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও স্বাভাবিক পরিবেশে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলি নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ, কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ এবং পরিচালকের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এখন ঢামেকে মুখোমুখি অবস্থানে চিকিৎসক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দুটি পক্ষ। পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।