দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং বেসরকারি খাতের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর সংস্কার, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এতে দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মতামত ও সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কারণে বাণিজ্য, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে সরকার গত পাঁচ মাসে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরলে তিনি সেগুলো বিস্তারিতভাবে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৈঠকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি দূর করা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কাঠামো সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এছাড়া বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বিভিন্ন শিল্প ক্লাস্টারে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিদ্যমান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি ব্যবসাবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের বিপুল তরুণ জনশক্তি ও নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা সরকারের জনবান্ধব নীতিমালা, বাজেট এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিতের নির্দেশ
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের বন্দরগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে সরকারের সব দপ্তরের সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা নিশ্চিত করা যায়। এর মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে—এমন আরও কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাব নিয়েও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।