প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। তিনি শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজার জেলার পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
একই সঙ্গে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য মন্ত্রী-এমপিগণ ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে সবার চারা রোপণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ক্ষমতায় এসে সারাদেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। কক্সবাজারের মালুমঘাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে আরেকটি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। এরপর ঢাকার করাইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড, টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড, সিলেটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন জেলায় পাইলটিং প্রকল্প শুরু হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি ভাতা এবং ক্রীড়াবিদদের সম্মানি ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রথম ধাপে দেড় কোটি চারা ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় রোপণ করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটাই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খালের খনন উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে এক পথসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্র সৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বিচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।
সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।