জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈ দুল আজহার নামজ শেষে বাবা ও মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জিয়া উদ্যোনে স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারত করেন তিনি। শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন তারা। এর পর দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার কয়েক জন সদস্য এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী যান বনানী কবরস্থানে। সেখানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ও শ্বশুর মাহবুব আলীর কবর জিয়ারত করেন তিনি। সকাল সাড়ে ৭টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকাস্থ মুসলিম দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ঈদের নামাজ আদায় করছেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি পবিত্র ঈদুল আজহার এই শুভক্ষণে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মুবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমান পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয়, বরং তা স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
তিনি বলেন, ‘পবিত্র ঈ দুল আজহায় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন।’
একইসঙ্গে তিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।’