সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ। তিনি বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায় নি। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থা রয়েছে।
ঈদুল আযহার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো থ্রেট বা হুমকি নেই। তাই বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত ঈদের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে র্যাব মহাপরিচালক জাতীয় ঈদগাহ মাঠ ঘুরে দেখেন।
নিরাপত্তা ব্রিফিংয়ে র্যাব ডিজি বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে র্যাবও ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তাদের নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল টিমগুলো কাজ করছে।
প্রধান প্রধান ঈদের জামাতের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোবাইল চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিভিন্ন কালোবাজারি অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুতদারি, দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজালসহ নকল দ্রব্য সামগ্রী বাজারজাত করে বাজার পরিস্থিতি যাতে অস্থিতিশীল করতে না পারে সেজন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রম সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় চুরি, ডাকাতি এবং ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তা চৌকি সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সব মেট্রোপলিটন শহর, জেলা শহর এবং উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত্রিকালীন টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কোরবানির পশুরহাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি হতে বিভিন্ন নজরদারি র্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোরবানিকে ঘিরে গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। বলেন, সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল এবং ফেরিঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থলে র্যাবের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন জোরপূর্বক কেউ কোনো নির্দিষ্ট হাটে নিয়ে যেতে না পারে, বাধ্য করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদ এবং নিয়ে যেন কেউ কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে র্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকছে।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম দমনে র্যাব সবসময়ের মতো তাদের নিয়মিত পেট্রোল গোয়েন্দা নজরদারি এবং আভিধানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং চালিয়ে যাবে বলেও জানান র্যাব মহাপরিচালক।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, অনুযায়ী সব জায়গায় চেষ্টা করছি। এবার ঈদ নিরাপত্তায় ব্যতিক্রম কী উদ্যোগ নিয়েছে র্যাব? এমন প্রশ্নের উত্তরে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সব সময় যেমন শুনে আসছেন স্বাভাবিক তেমনই। এখনো স্বাভাবিক অবস্থা আছে। এ স্বাভাবিকতা সবার কাছে প্রত্যাশিত।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব ক্যাম্পে ইয়াসিন বাহিনীর তাণ্ডবের ঘটনা ঘটেছে। ইয়াসিন বাহিনী কি র্যাবের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?- এমন প্রশ্নের উত্তরে র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেন, আর কোনোভাবেই সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকতে পারবে না। র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ইয়াসিন বাহিনী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে- এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তারা অতর্কিত কাজটা করেছে। পর্যাপ্ত মনিটরিং ছিলো না বলেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে তা অসাবধানতাবশত হয়েছে। কিন্তু তারা এখানে আসতে পারবে না। তাদের সেই শক্তি নেই। তারা যেখানেই থাকুক, যেভাবেই থাকুক, তাদের উচ্ছেদ করা হবে। তারা কোনোভাবেই সেখানে ঢুকতে পারবে না। র্যাব মহাপরিচালক জানান, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।