স্কুলশিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস। কোয়ালিশন মনে করে, এই নৃশংস ঘটনা শুধু একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশে শিশুদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে জবাবদিহি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে। সংগঠনটি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি অ্যান্ড জাস্টিস গঠিত হয়েছে ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, জাগো ফাউন্ডেশন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশকে নিয়ে। বাংলাদেশে সমতা, ন্যায়বিচার ও শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনগুলো সম্মিলিতভাবে কাজ করছে তারা।
কোয়ালিশন সতর্ক করে বলেছে, শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। রামিসার ঘটনা সেই বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের অধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহনীয় নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন; এর মধ্যে মেয়ে শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ৪৭৯টি। গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৪৭৬ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, ১৫৩ জন ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে, ১১১ শিশু হত্যার শিকার হয়েছে এবং ১৫৬ জন আত্মহত্যা করেছে। ২০২৪ সালে কন্যাশিশু ধর্ষণের প্রকাশিত ঘটনা ছিল ২৯২টি। এসব সংখ্যা শুধু প্রকাশিত ঘটনার চিত্র তুলে ধরে; ভয়, সামাজিক অপবাদ ও সামাজিক চাপের কারণে বহু ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়।
কোয়ালিশন রামিসার পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও শিশুবান্ধব তদন্তের আহ্বান করেছে, যাতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের বিলম্ব, হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা আপস গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ঘটনাটি বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (ইউএনসিআরসি) এবং সিইডিএডব্লিউ-এর অধীনে নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বিদ্যমান জরুরি ঘাটতিগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে, যেগুলো প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে।
মূল দাবি
কোয়ালিশন আরও বলেছে, রামিসার জন্য ন্যায়বিচার বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদার দাবি। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব।