দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (৩ মে) দুপুর ৩টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ সময় এসব অঞ্চলে বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, চলতি মাসে দেশে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাসহ ৫-৮ দিন হালকা অথবা মাঝারি, যার মধ্যে দুই থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড়সহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। রোববার আবহাওয়া অধিদপ্তরের মে মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি মে মাসে বঙ্গোপসাগরে ১-২টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এছাড়া এই মাসে দেশে একটি তীব্র (৪০-৪১.৯ সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহে স্বাভাবিক প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। তবে বিচ্ছিন্ন ভারি বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষিতে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীসমূহের পানি সমতল সময় বিশেষে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এ মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিমিটার এবং গড় সূর্য কিরণকাল ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে।
গত এপ্রিল মাসে দেশে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১১৯ মিলিমিটার হলেও বৃষ্টি হয়েছে ১৯৬ মিলিমিটার। এ মাসে গড়ে ৮ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে ১১ দিন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, এপ্রিলে বৃষ্টির ধরন ছিল অস্বাভাবিক। সাধারণত বছরের এই সময় উপস্ট্রিমে (ভারতের দিকে) বৃষ্টিপাত বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর ডাউনস্ট্রিমে মানে বাংলাদেশে প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।