তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। শনিবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে ‘গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা রাষ্ট্রকে নতুন করে রিস্টার্ট করার সুযোগ পেয়েছি। একটি ভোট ডাকাতির পার্লামেন্ট হঠাৎ করে হাওয়া হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরপর দেশের জনগণ অবাধ নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকারকে বসিয়ে পুনরায় দেশে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সচল করেছে। এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আমাদের সামনে চিন্তার নতুন জগত উন্মোচিত করে দিয়েছে।’
গণমাধ্যমের চতুর্থ স্তম্ভ ও চ্যালেঞ্জ বিষয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের অন্যতম। একটি সভ্য রাষ্ট্রের জন্য মুক্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘তথ্যের অবাধ সরবরাহ এখন আর বড় বাধা নয়, বরং তথ্যের সাথে নিজের রঙের মাধুরী মিশিয়ে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সত্যকে বিচিত্র পাত্রে রেখে বিভ্রান্ত করার যে প্রচেষ্টা চলে, তাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্যের স্বাধীনতা মানে যেমন খুশি তেমন তথ্য প্রচার নয়। অবাধ তথ্যকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ক্লিন ইনফরমেশন (পরিচ্ছন্ন তথ্য) হতে হবে। অক্সিজেনের অভাবে যেমন মানুষ বাঁচে না, তেমনি তথ্যের অভাবে গণতন্ত্র বাঁচে না। কিন্তু সেই তথ্য যদি দূষিত হয়, তবে তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।’
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার।