সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা ও জেলার সার্বিক উন্নয়নে সাতটি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সুরক্ষা, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন, চিকিৎসা সেবার বিস্তার, শিল্পকারখানা সম্প্রসারণ এবং আইটি পার্ক চালু—এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
শনিবার (২ মে) সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। সকালে বিমানবন্দর থেকে শাহজালাল মাজার হয়ে নগরে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে তিনি সুরমা নদী রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ অপচনশীল বর্জ্য নদীতে না ফেলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণের উদাহরণ তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে শিশুদের পরিবেশ সচেতন করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় সড়কপথে সিলেটে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে সিলেট থেকে লন্ডনে যেতে যেখানে প্রায় নয় ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে সিলেট থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে তার প্রায় দশ ঘণ্টা লেগেছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর সড়ক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জানতে পেরেছেন, অন্তত ১১টি স্থানে যোগাযোগ অবকাঠামোর কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এসব কাজ শুরু করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক বছরের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে সড়কপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা–সিলেট রুটে আধুনিক রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকে আরও সাশ্রয়ী ও কার্যকর করা হবে। এতে ব্যবসায়ীরা কম খরচে পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রেলপথ সম্প্রসারণের দিকেই সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
চিকিৎসা খাতে উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। সিলেটের বিদ্যমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা থেকে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটে দ্রুত আইটি পার্ক চালুর ঘোষণাও দেন। তিনি বলেন, অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, আইটি পার্ক চালু হলে তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা তরুণদের কর্মসংস্থানে সহায়ক হবে। সিলেটে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।