আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আগামী ১ মে বেলা আড়াইটায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এতে অংশ নেবেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটি একটি বড় কর্মসূচি এবং একটি বৃহৎ শ্রমিক সমাবেশে পরিণত করার জন্য ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল থেকে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে এবং পহেলা মে পর্যন্ত এই প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে। এবারের সমাবেশ একটি ঐতিহাসিক সমাবেশে রূপ নেবে।’
তিনি বলেন, ‘মহান মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।’
শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ১৮৮৫ সালে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নেয় যে পরের বছরের মে মাসে তারা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের আন্দোলন বিশ্ব ইতিহাসে স্থান পায়।’
নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা তখন শুধু আন্দোলনই করেনি, বরং সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরির জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যেমন, যেসব কারখানা আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা মেনে নিয়েছিল, শ্রমিকরা সেসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যই ব্যবহার করত। এটাই সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের শক্তি, সংহতি, ত্যাগ ও ঐক্য।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের শ্রমজীবী মানুষের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, তারাও শ্রমিক। তাদের সংগঠনও শ্রম আইনের অধীনে নিবন্ধিত। অতএব, আপনাদের কাছেও আমাদের আহ্বান, শ্রমজীবী মানুষের এই গৌরবের দিনটিকে সফল করতে সহযোগিতা করুন।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগেই সংগ্রহ করছেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা নিজেরাই চাঁদা দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। কারো কাছে অর্থের জন্য যেতে হচ্ছে না। এটি আমাদের স্বনির্ভরতার একটি উদাহরণ।’