বর্ষার দিনে এক কাপ গরম চা যেন অনেকের কাছেই বাড়তি স্বস্তির নাম। জানালার বাইরে টুপটাপ বৃষ্টি আর হাতে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ—এই সাধারণ দৃশ্যই অনেক সময় মন ভালো করে দিতে পারে। এমন দিনে পরিচিত দুধ-চায়ের পাশাপাশি ভিন্ন স্বাদের কিছু চাও হতে পারে দারুণ সঙ্গী।
আদা চা
বর্ষাকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় চাগুলোর একটি আদা চা। ফুটন্ত পানিতে চা-পাতার সঙ্গে থেঁতো করা আদা দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে দুধ ও চিনি মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। আদার ঝাঁঝালো স্বাদ শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়।
কড়া দুধ-চা
যারা একটু বেশি কড়া চা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি আদর্শ। দীর্ঘ সময় ধরে চা-পাতা ফুটিয়ে দুধ, চিনি ও সামান্য এলাচ মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই ঘন স্বাদের চা। বৃষ্টিভেজা বিকেলে এটি শরীরে উষ্ণতা এনে দেয় এবং সতেজ অনুভূতি জাগাতে সাহায্য করে।
সুলেমানি চা
দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় এই চায়ে দুধ ব্যবহার করা হয় না। ঘন কালো চায়ের সঙ্গে লেবু, আদা, পুদিনাপাতা ও অল্প গুড় মিশিয়ে তৈরি করা হয় সুলেমানি চা। হালকা সুবাস ও স্বাদের কারণে এটি অনেকের কাছেই প্রিয়। ভারী খাবারের পর হজমে সহায়তা করতেও এটি উপকারী বলে ধরা হয়।
তুলসী চা
ভেষজ গুণসম্পন্ন এই চা বর্ষার পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় বেশ জনপ্রিয়। তুলসীপাতা, আদা ও গোলমরিচ ফুটিয়ে তাতে চা-পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ছেঁকে নিতে হয়। পরে সামান্য মধু মিশিয়ে পান করা যায়। তুলসীর অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য শরীরের রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
কাশ্মীরি কাহওয়া চা
কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী এই পানীয় মূলত গ্রিন টি দিয়ে তৈরি হয়। এর সঙ্গে দারুচিনি, এলাচ ও লবঙ্গ ফুটিয়ে ওপর থেকে কুচি করা কাঠবাদাম ও আখরোট ছড়িয়ে পরিবেশন করা হয়। হালকা মসলার সুবাস ও বাদামের স্বাদ এই চাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
মশলা চা
বৃষ্টির দিনে ঘরে বসে উপভোগ করার জন্য মশলা চা হতে পারে দারুণ একটি বিকল্প। দুধের সঙ্গে লবঙ্গ, এলাচ, দারুচিনি ও গোলমরিচ ফুটিয়ে তাতে চা-পাতা মেশানো হয়। চাইলে আদা, গুড় বা চিনি যোগ করা যায়। সুগন্ধি এই চা শরীরে উষ্ণতা আনে এবং আড্ডার পরিবেশও জমিয়ে তোলে।
তন্দুরি চা
ভিন্ন স্বাদের চা পছন্দ হলে তন্দুরি চা চেখে দেখতে পারেন। এই চায়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো পোড়ানো মাটির ভাঁড়ের সুবাস। চায়ের সঙ্গে মাটির গন্ধ মিশে এক ধরনের আলাদা স্বাদ তৈরি করে, যা বর্ষার আবহের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। বন্ধুদের আড্ডা কিংবা ছুটির বিকেলে এটি হতে পারে ব্যতিক্রমী এক পানীয়।
এই বর্ষায় প্রতিদিন একই ধরনের চায়ের বদলে ভিন্ন স্বাদের এসব চা একবার হলেও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। হয়তো নতুন কোনো স্বাদই হয়ে উঠবে আপনার বৃষ্টির দিনের প্রিয় সঙ্গী।