ট্রাইব্যুনালে কল রেকর্ড দাখিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?’ জবাবে সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, ‘তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।’
কল রেকর্ডে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম জানান, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশের কারণে তারা শাহবাগ বা আন্দোলনকারীদের অবস্থানের দিকে যেতে পারেননি।
সাদ্দাম কাদেরকে বলেন, ‘মানে আমরা তো গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে চাই, তাহলে আমরা তো সেটা করতে পারব। স্যার, যে আমাদের নিষেধ করল। শাহবাগের দিকে যেতে তো আমাদেরকে নিষেধ করল। বারবার ফোন দিয়ে বলল যে শাহবাগের দিকে বা অন্য দিকে আমরা যেন না যাই। ওদের মুখোমুখি যেন না হয়, এটাই তো বারবার বলতেছিল স্যার।’
তখন ওবায়দুল কাদের জানতে চান, ‘কে?’ জবাবে ইনান বলেন, ‘আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা ওনারা বলছিল।’ এর জবাবে কাদের বলেন, ‘বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না!’
এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।
গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।