প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার একটি আদালত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য দ্বিতীয় দফায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এ মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছাত্র-জনতার সঙ্গে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান নেন। এ সময় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০-৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা শান্তিপূর্ণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।
এতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে ভিকটিমের অবস্থার অবনতি হলে, পরদিন ২০ জুলাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে ২১ জুলাই ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় ভিকটিম দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।