মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
| ২৯ পৌষ ১৪৩২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করেন। এ সময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা গেটের বাইরে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান ও উচ্চস্বরে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।
গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হুঁশিয়ারি জানিয়েছে সংগঠনটি।
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্যসচিব মাহদী হাসান। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এই ঘটনা ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহদীর বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও বিলুপ্ত গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করছে। এতে তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হতে যাচ্ছে এবং কার্যত এনসিপি জামায়াতের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণার কথা থাকলেও রাজনৈতিক মতভেদের কারণে পেছাতে থাকে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ। দীর্ঘ আলোচনা-সংলাপের পর জুলাইয়ের শুরুতে পুনরায় আলোচনা শুরু হলেও এখনও কিছু মূলধারায় ঐকমত্য হয়নি। জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের মধ্যস্থতায় ঘোষণা চূড়ান্তের চেষ্টা চলছে। নেতৃত্বাধীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জনগণের অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে এবারও আশা জাগিয়েছে সরকার। লক্ষ্য, ৫ আগস্টের আগেই চূড়ান্ত ঘোষণা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা সমন্বয়কদের কার্যকারিতা ও আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় এই পরিচয়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের অধিকাংশকে তিনি সংকটে রিচ করতে পারেননি। বরং সাধারণ মানুষের সহায়তা ছিল অনেক বেশি। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর সমন্বয়ক পরিচয়ে একশ্রেণির লোক চাঁদাবাজি ও দখলদারিতে লিপ্ত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশের সকল শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। সম্প্রতি সংগঠনের একজন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেউ ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি বা তদবির করতে গেলে তাকে তাৎক্ষণিক পুলিশে ধরিয়ে দিতে হবে।
রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক এমপির বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান রিয়াদের উত্থান নিয়ে নোয়াখালীর সেনবাগে চলছে তুমুল আলোচনা। একসময় দরিদ্র রিকশাচালকের ছেলে রিয়াদ ছিলেন স্থানীয় স্কুলের সাধারণ ছাত্র। ছাত্রলীগে যোগদানের পর হঠাৎ জীবন বদলে যায়। বিলাসবহুল জীবনযাপন, পাকা বাড়ি ও গাড়ির মালিক হওয়ায় গ্রামবাসী বিস্মিত। স্থানীয়রা বলছেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়া’ আর ‘সমন্বয়ক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে সম্পদের মালিক বনে যাওয়া রিয়াদের মতো আরও কেউ লুকিয়ে আছে কি না, তা খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছেন তারা।