জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হারুন উর-রশীদ ও মো. মশিউর রহমানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষে সংস্থার উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টরা দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে প্রথমবার দায়িত্ব নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৭ সালে তাকে পুনরায় চার বছরের জন্য একই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালে হারুন-অর-রশীদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে উপাচার্যের দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান। তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সামনে আসে। আদালতের এই আদেশের ফলে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
ডিআইজির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
এ ছাড়া দুর্নীতিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান থাকায় পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) শেখ নাজমুল আলমের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একই দিনে একই আদালত এ আদেশ দেন।
দুদকের পক্ষে আবেদনটি করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক মনির মিয়া। আবেদনে বলা হয়েছে, নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। তিনি দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।