বিশ্বজুড়ে অনেক পুরুষ এখন নিজের প্রজননক্ষমতা বা শুক্রাণুর স্বাস্থ্য নিয়ে আগের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসংক্রান্ত ভিডিও ও পরামর্শের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। তবে এসব পরামর্শের অনেকগুলোর পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী সাইমনও এমনই একজন। সন্তান নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বা সঙ্গী না থাকলেও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি প্রতিদিন স্টিম বাথ নেন, অণ্ডকোষে বরফের প্যাক ব্যবহার করেন, নিয়মিত ব্যায়াম করেন, সূর্যালোক নেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকমুক্ত পানি পান করেন এবং সম্ভাব্য টক্সিন এড়াতে তুলার অন্তর্বাস পরেন। তার বিশ্বাস, এসব অভ্যাস শুক্রাণুর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের মধ্যে উর্বরতা নিয়ে সচেতনতা বাড়লেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অনেক দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যুক্তরাজ্যের ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সুক্স মিনহাসের মতে, সচেতনতা ইতিবাচক হলেও অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। একই সঙ্গে এই উদ্বেগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট, অনলাইন কোর্স ও স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রির একটি বড় বাজার গড়ে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকজন জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার দাবি করেন, স্টিম বাথ, বরফের প্যাক, রেড লাইট থেরাপি বা বিশেষ সাপ্লিমেন্ট শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়াতে পারে। তবে এসব পদ্ধতির অধিকাংশের কার্যকারিতা এখনো বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। অনেকেই এসব পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টও বিক্রি করছেন।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী শুক্রাণুর সংখ্যা কমছে—এমন গবেষণা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও এর কারণ ও জন্মহারের ওপর প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান জন্মহার কমার পেছনে শুধু জৈবিক কারণ নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো, শরীরচর্চা ও বাহ্যিক গঠন উন্নত করতে অনেক পুরুষ টেস্টোস্টেরন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন। চিকিৎসকদের মতে, এগুলো উল্টো প্রজননক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। পরে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন হরমোনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন, যা গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এমনকি স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
প্রজনন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট অধ্যাপক চান্না জায়াসেনার পরামর্শ, পুরুষদের উর্বরতা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপ্রমাণিত পরামর্শ অনুসরণ না করে উদ্বেগ থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: বিবিসি