রক্তে এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা নীরবে শরীরের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত এলডিএল কোলেস্টেরল রক্তনালিতে চর্বি জমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ওষুধের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে বলছেন চিকিৎসকরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু ফল নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। বিশেষ করে পেক্টিন (দ্রবণীয় ফাইবার), ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ ফল শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল অন্ত্রে শোষিত হতে বাধা দেয় এবং তা শরীর থেকে বের করে দিতেও সাহায্য করে।
অনেক সময় কোলেস্টেরল কমাতে বিভিন্ন ধরনের বেরি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সেসব ফল সব জায়গায় সহজলভ্য নয়। সে ক্ষেত্রে সহজে পাওয়া যায়—এমন কিছু ফলও উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আপেল, পেয়ারা, কমলালেবু, আঙুর, পাতিলেবু ও নাশপাতি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়া ভালো। কারণ এতে ফাইবারের পরিমাণ অক্ষুণ্ন থাকে। সম্ভব হলে খোসাসহ ফল খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে অবশ্যই ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
শুধু ফল নয়, আরও কিছু খাবার কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডভিত্তিক চিকিৎসক কর্ণ রাজন। তার মতে, চিয়া বীজ, কুমড়োর বীজ ও তিসির বীজের মতো বিভিন্ন বীজে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে, যা অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে। এতে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও কমে।
এ ছাড়া বিনস ও ডালজাতীয় শস্যে থাকা বিশেষ ধরনের ফাইবার অন্ত্রে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা লিভারে নতুন কোলেস্টেরল তৈরির প্রক্রিয়া কমাতে সহায়তা করে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনসমৃদ্ধ এসব খাবার শরীর থেকে এলডিএল কোলেস্টেরল বের করে দিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান নামের দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর বলে মনে করা হয়। এটি হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়ক পিত্তরসের সঙ্গে মিশে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। ফলে লিভার নতুন পিত্তরস তৈরি করতে রক্ত থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ব্যবহার করে, যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।