কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম জমকালো আয়োজন ‘বেটার ওয়ার্ল্ড ফান্ড’ গালা ইভেন্টে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল! মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় মিলনায়তনে উপস্থিত অতিথিদের মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হলিউডের কিংবদন্তি সুপারস্টার শ্যারন স্টোন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত দর্শকদের ডিজিটাল আসক্তি এবং যান্ত্রিক আচরণের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে অসংযত ভাষায় তাদের ধমক দেন ‘বেসিক ইন্সটিঙ্কট’ খ্যাত এই অভিনেত্রী।
চলতি সপ্তাহের সোমবার (১৮ মে) রাতে অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ গালা ইভেন্টে শ্যারন স্টোন যখন মানুষের দুঃখ, ভয়, ক্ষোভ এবং পারস্পরিক আত্মিক বন্ধন নিয়ে একটি আবেগঘন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সামনের সারির অনেক অতিথিকে মনোযোগ না দিয়ে নিজেদের ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকতে এবং ভিডিও রেকর্ড করতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি ৬৬ বছর বয়সী এই তারকা।
বক্তব্যের মাঝখানেই চিৎকার করে তিনি বলে ওঠেন, "আমি চাই আপনারা পাশে থাকা মানুষটিকে বলুন এবং মন থেকে বলুন যে তাদের কষ্টের জন্য আপনি দুঃখিত। মানুষ যখন একা থাকে বা রাগে থাকে, তখন এই জিনিসগুলোই তাদের ভীত ও নিষ্ঠুর করে তোলে... তাই দয়া করে ওই অভিশপ্ত ফোনটা এখন নিচে রাখুন! আপনার পাশে থাকা মানুষটির দিকে তাকান এবং তাকে জড়িয়ে ধরুন আর বলুন, আই এম স্যরি।"
হলিউড সাময়িকী ‘ভ্যারাইটি’র এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘটনার ভিডিওটি পোস্ট করার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। শ্যারন স্টোন কেবল সাধারণ কোনো উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং মঞ্চ থেকে সরাসরি নির্দিষ্ট কয়েকজন অতিথির দিকে আঙুল নির্দেশ করে তাদের ফোন রেখে পাশের অচেনা মানুষকে জড়িয়ে ধরার আহ্বান জানান। তাঁর এই কড়া ও স্পষ্ট বার্তার পর মিলনায়তনে এক মুহূর্তের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে আসে এবং অনেক অতিথিই লজ্জিত হয়ে ফোন পকেটে পুরে নিতে বাধ্য হন।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর মতে, শ্যারন স্টোনের এই ক্ষোভ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বর্তমান যুগের ডিজিটাল ডিটক্স বা প্রযুক্তি থেকে মুক্তির এক জোরালো আহ্বান। কান উৎসবের মতো বড় বড় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মেও মানুষ যেভাবে রক্ত-মাংসের মানুষের উপস্থিতি উপভোগ না করে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মগ্ন থাকে, শ্যারন স্টোন অত্যন্ত রূঢ় কিন্তু বাস্তবসম্মত ভাষায় তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। কানের এই স্মরণীয় ঘটনাটি উৎসবের ৭৯তম আসরের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের প্রযুক্তি-নির্ভরতাকে আবারও বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া