বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তার প্রভাবে বাজারে দ্রব্যমূল্য সেভাবে বৃদ্ধি পাবে না। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি গাণিতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জানান, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো শক্তিশালী উপাদান নয়।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনের এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে বলেন, ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য ও প্রাপ্যতা, উভয়ই অনিশ্চয়তার মুখে। দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে দুই অঙ্কের ঘরে থাকার পর বর্তমানে তা নয় শতাংশের কিছু উপরে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি-না, তা জানতে চান তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, মূল্যস্ফীতি সেইভাবে বৃদ্ধি পাবে না। কারণ সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের মূল্য যে অনুপাতে বৃদ্ধি পেয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে নিতান্তই মডেস্ট (সহনীয়)।’
মন্ত্রী বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘আমেরিকায় ট্যাক্সের কারণে একেক রাজ্যে জ্বালানির দাম একেক রকম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে অনেক রাজ্যে প্রতি গ্যালন (সাড়ে চার লিটার) তেলের দাম দুই ডলার ৭০ বা ৮০ সেন্ট ছিল, যা এখন পাঁচ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় যেকোনো অর্থনীতির দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, সব দেশেই পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। অনেক দেশেই এই দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, যেখানে সরকারের আলাদা কোনো পদক্ষেপ নিতে হয় না।’
বাংলাদেশে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ ১৫ শতাংশ বেড়েছে। একটি শিল্পকারখানায় মোট উৎপাদন খরচের (কস্ট অব প্রোডাকশন) মাত্র সাত থেকে আট শতাংশ থাকে জ্বালানি ব্যয়। সেই সাত-আট শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক খরচে খুব সামান্যই প্রভাব ফেলে।’
পরিবহন খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে একটি বাসের কমবেশি ২৫-৩০ লিটার ডিজেল লাগে। ৩০ লিটার ডিজেলে খরচ বেড়েছে মাত্র ৪৫০ টাকা। এই একই পরিমাণ জ্বালানি যখন একটি ট্রাকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন এই ৪৫০ টাকার অভিঘাত পড়ে ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর। ফলে প্রতি ইউনিট পণ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, এই বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো এলিমেন্ট নয়।’
অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না যেখানে ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স নষ্ট হয়ে যায়। সেজন্য বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও মডেস্টলি এবং খুবই মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।’