অপহৃত দুই শিক্ষার্থী উদ্ধার
গভীর রাত। চারদিকে সুনসান নীরবতা। হঠাৎ একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মোবাইল স্ক্রিন জ্বলে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নম্বরটি চেনা, কিন্তু ওপাশ থেকে যে কণ্ঠস্বর ভেসে এল, তা ছিল সম্পূর্ণ অচেনা এবং বরফশীতল! "আপনার ছেলে আর তার বন্ধু আমাদের হেফাজতে। জীবিত ফেরত চান? তাহলে ৫ লাখ টাকা নিয়ে জলদি চলে আসুন!"
ফোনের ওপাশ থেকে আসা এই একটি বাক্যেই মুহূর্তের মধ্যে ওলটপালট হয়ে যায় একটি পরিবারের পৃথিবী। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, রাজধানী ঢাকার বুকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া এক কলেজছাত্র ও তার বন্ধুকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে অপহরণের এক ভয়ঙ্কর নীল নকশা। আর তার চেয়েও বড় ধাক্কাটি অপেক্ষা করছিল এই অপরাধের শেষ গন্তব্যে, যার সূত্র মিলেছে খোদ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে!
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটোরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্র সাজিদ হাসান তাহসিন নিজের নীল রঙের একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বাসা থেকে বের হন। সাথে ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মেহেরাব হোসেন নেহাল। উদ্দেশ্য ছিল গাড়িতে জ্বালানি নেওয়া। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান এই দুই তরুণ। পরিবারের সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সব ধরনের যোগাযোগ। ঠিক তার আড়াই ঘণ্টা পর- রাত ১টা ১০ মিনিটে আসে সেই মুক্তিপণের ফোন। অপহরণকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে হবে শাহবাগ থানার নীলক্ষেত মোড়ে।
টাকা জোগাড় করার চেয়ে তাহসিনের পরিবার বেছে নিল সঠিক ও সাহসী পথ। তারা তাৎক্ষণিক ফোন করেন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ। সেখান থেকে বার্তা পাঠানো হয় শাহবাগ থানায়। খবর পেয়েই অ্যাকশনে নামে পুলিশ। শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি।
রাত গড়িয়ে যখন ভোর সাড়ে ৪টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তখনো কুয়াশা আর অন্ধকারের চাদরে ঢাকা। ঠিক তখনই ভিসি চত্বর এলাকায় হানা দেয় শাহবাগ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। অপহরণকারীদের পাতা ফাঁদেই তাদের ঘিরে ফেলে পুলিশ। ফলাফল? হাতেনাতে উদ্ধার করা হয় অপহৃত তাহসিন ও নেহালকে। উদ্ধার হয় জিম্মি করা সেই নীল রঙের প্রাইভেটকারটিও। ঘটনাস্থল থেকে আবু জোবায়েদ জয়, কামরুল ইসলাম ও আব্দুল আলীম নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় নাবিল ও শাকিল নামে আরও দুই অপহরণকারী। কিন্তু মামলার এজাহারে উঠে এসেছে, অপহরণকারীদের মধ্যে দুজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহসীন হলের শিক্ষার্থী। এছাড়া তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামি নাবিল ও শাকিলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।