চার দিনের মাথায় হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
এতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে পুরো শিল্পাঞ্চল। উৎসাহ নিয়ে দল বেঁধে কর্মস্থলে ফিরেছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে কারখানা সচল করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মকর্তারাও।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছে।
জালালাবাদ গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। কোনো ধরনের সমস্যা না হলে শনিবারের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।
এস এম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার বলেন, শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শনিবার সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানা চালু করা হয়। গ্যাস সরবরাহ ভালো হয়েছে জানিয়ে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও তাদের চিঠি দিয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মিল বন্ধ থাকলে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। গ্যাস সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে, সেটিই এখন প্রত্যাশা।
স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ কিছুটা শুরু হলেও শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পেয়েছেন। সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার পর জেনারেটর চালু করে কারখানার উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যস্ত সময় কাটছে।
কারখানার শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন কারখানা বন্ধ থাকায় চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে মালিকপক্ষ কতদিন লোকসান দিয়ে বেতন দেবে, তা নিয়েও চিন্তা ছিল। শনিবার কাজে ফিরতে পেরে তিনি আনন্দিত।
আরেক শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, কয়েক দিন কারখানা বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন উদ্বেগ ছিল, অন্যদিকে কর্মহীন সময় কাটানোও কঠিন হয়ে পড়েছিল। আবার কাজে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে।
শ্রমিক শিউলি আক্তার বলেন, কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা ছিল। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ সংসার চালানো কঠিন হয়ে যেত। কারখানা আবার চালু হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই থেকে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় ২০ দিন ধরে সংকট চললেও সামান্য গ্যাস সরবরাহ ছিল। তবে বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার অধিকাংশের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।
গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়লেও কোনো শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এ সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পাশাপাশি বাতিল হয়েছে বেশ কিছু রপ্তানি আদেশও।
গ্যাস কর্তৃপক্ষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ ফের শুরু হওয়ায় শ্রমিকরা কর্মস্থলে ফিরেছেন এবং আবারও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চল।