এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পাশাপাশি হতাশাজনক ফলাফলও আলোচনায় এসেছে। জামালপুরে এমন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখান থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও মাত্র তিনজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো—ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক কর্মরত। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটির প্রথম এসএসসি ব্যাচ থেকে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তিনজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জন্য এটিই ছিল প্রথম এসএসসি পরীক্ষার অভিজ্ঞতা। প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েই শতভাগ ফেল করায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চারজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
এ ছাড়া বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ জন শিক্ষার্থী। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্য থেকেও একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এমন ফলাফলে জেলার সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়; এর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত এবং নিয়মিত তদারকির বিষয়ও জড়িত। বিশেষ করে পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক থাকার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না আসার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এটি তাদের প্রথম এসএসসি ব্যাচ। কিন্তু কেউ পাস করতে পারেনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’
সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু কেউ পাস না করায় আমরা হতাশ। ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’