বরিশালের নদী, প্রকৃতি ও মানুষের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। বরিশালে প্রথমবার এসে নৌকা ভ্রমণ ও ভাসমান বাজার ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বরিশাল খুব সুন্দর জায়গা। নৌকা ভ্রমণ আমার ভীষণ পছন্দের।’
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নগরের কীর্তনখোলা নদীতে একটি লঞ্চে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘এটা বরিশালে আমার প্রথমবার। বরিশাল খুব সুন্দর। নৌকা ভ্রমণ আমার ভীষণ পছন্দের। ঢাকা থেকে এসে আমি ভাসমান বাজার ভ্রমণ করেছি। আপনাদের সবার সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে ভালো লেগেছে।’
বরিশাল শহরের সৌন্দর্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, শহরটি খুবই সুন্দর। বরিশালের মানুষের আন্তরিকতাও তাকে মুগ্ধ করেছে।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বরিশালে আসায় তারা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তিনি বারবার বরিশালে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে অবস্থিত প্রাচীন এ মসজিদে যান তিনি। মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এর স্থাপত্য ও সৌন্দর্য ঘুরে দেখেন।
মিয়াবাড়ি মসজিদ পরিদর্শনের আগে মসজিদসংলগ্ন উত্তর কড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান কার্যক্রম দেখেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন।
বরিশালে আসার আগে ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজার ও পেয়ারা বাগান ঘুরে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নৌকায় করে ভাসমান বাজার পরিদর্শনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন ও বরিশাল অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন তিনি।
বরিশাল সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে স্থানীয় ঐতিহ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ও নৌকাকেন্দ্রিক জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান মার্কিন রাষ্ট্রদূত।