বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে দুই দফা মারামারি হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-সাফওয়ান (২১), শিফাত (২৭), আল আমিন (২৫), হেলাল (২৬), রবিউল (২৩), মনিরুল ইসলাম (২৬), হাফিজ (২৩), আব্দুল্লাহ আল বাকি (২৪), হৃদয় (২৩), তরিকুল ইসলাম (২৪)।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম আজমাইন বলেন, ‘আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চেয়েছি। কিছু সময় পর দেখি, শিবির কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে এনে একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা করছে। ক্যাম্পাসে বহিরাগত সম্পূর্ণ নিষেধ, আমরা বাঁধা দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে। হামলাকারী শিবির নেতাকর্মীরা লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে ১০/১২ জনকে আহত করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান সিফাত বলেন, ‘জুলাই গনঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্রদল কর্মসূচির আয়োজন করে। এ সময় দেখতে পাই বহিরাগত নিয়ে শিবির ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তখন শাখা শিবিরের সভাপতিকে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করতে নিষেধ করা হয়। তখন তারা আমারদের ওপর হামলা করে।’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিবির সাথী পরিচয় দেওয়া মো. আল আমিন বলেন, ‘২০২৪ পরবর্তিতে প্রতি বছর শহীদদের স্মরণে একটি মিছিল করি। সেটা খুবই ভালো একটা প্রোগাম ছিল। ২৪-এর শহীদদের স্মরণে সাধারণ একটা মিছিল ছিল। মিছিলের শেষ মুহূর্তে ছাত্রদল হঠাৎ করে হামলা চালায়। এ সময় অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কি ও কথা কাটাকাটি হয়। আমরা চেয়েছি দুই পক্ষ দুই দিকে সরে যাক। এ সময় ভিসি, প্রক্টরসহ কয়েকজন শিক্ষক এসে থামানোর চেষ্টা করেন। তখন পেছন থেকে এসে শাখা শিবির সভাপতি মনিরুল ইসলামকে আঘাত করে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে আমাকেও মারধর করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ভিসির কক্ষে গিয়েছি। প্রক্টর আমাদের মেডিকেলে নিয়ে আসবে। প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আসার পর প্রক্টরের সামনে দ্বিতীয়বার হামলা করা হয়েছে।’
বহিরাগত নিয়ে মিছিলের অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের আশপাশে আমাদের নেতাকর্মীরা হয়তো মিছিলে ঢুকে পড়েছিল। অনেকে রাস্তার পাশে ছিল। তাদেরও ধরে এনে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। ছাত্রদলের হামলায় আমাদের ৯/১০ জন আহত হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর মেহেদি হাসান সোহাগ বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবোঝি হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে হিট করেছে। আমরা দুই পক্ষকেই থামিয়েছি। থামাতে গিয়ে আমরাও আহত হয়েছি।’
এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বেলাল হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক পরিস্থিতি শান্ত করেছি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’