পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙনের ফলে একের পর এক তিন ফসলি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে শতাধিক বসতভিটা। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।
চলতি মৌসুমে জেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া ও হাটখোলা এলাকায়। পদ্মার তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি। একইভাবে ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকাতেও অব্যাহত রয়েছে নদীভাঙন।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ফয়জুল করিম বলেন, ‘বছরের পর বছর এই জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চালিয়ে আসছি। এখন চোখের সামনে জমিগুলো নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অবশিষ্ট জমিটুকুও হারালে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। বসতবাড়িটিও এখন হুমকির মুখে।’
আরেক কৃষক আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই জমিতে বছরে তিনবার ফসল আবাদ করি। কিন্তু প্রতি বছরই নদীভাঙনে জমি হারাচ্ছি। এবার যদি বসতভিটাও নদীতে চলে যায়, তাহলে পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব জানি না।’ তিনি দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
এদিকে পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও ভাঙন বেড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে খোকসা উপজেলার শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ ধসে গেছে, যা স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো গেলেও স্থায়ী নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিবছর একই সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়বে।