প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্রকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে তাকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আবু সাঈদ শুভ্র গত ১৬ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
গত ২ জুলাই একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকল্পের উপকরণ বিতরণে অনিয়ম, নিম্নমানের বাঁশ সরবরাহ এবং জৈব সার বিতরণে গরমিলের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সদর উপজেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বাঁশের খুঁটির মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও অনেক কৃষককে ১০ থেকে ২০ টাকা মূল্যের নিম্নমানের কঞ্চি বা ছাটা বাঁশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ৬০০ টাকার বিপরীতে প্রতি কৃষককে ১৫০ কেজি জৈব সার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেককে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ কেজির প্যাকেটজাত সার। অভিযোগ রয়েছে, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কাগজে-কলমে ১৫০ কেজি সার গ্রহণের স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়া হয়েছে।
এসব অনিয়মের মাধ্যমে বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বাবদ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।