উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সদর উপজেলার বাহুকা ও চৌহালী উপজেলার নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও নদী তীররক্ষা বাঁধের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে প্লাবিত হতে শুরু চরাঞ্চলগুলো। এতে নদীর তীরবর্তী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে কাজিপুর পয়েন্টে পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সদর উপজেলার বাহুকা পয়েন্টে নদী তীররক্ষা বাঁধে ধস নেমেছে। এতে প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া পানি বৃদ্ধি ও হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি পয়েন্টেও নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের কারণে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকলে শত শত একর ফসলি জমির পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই জনপদ, কৃষিজমি ও সরকারি স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাহুকা গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘হঠাৎ দেখি নদীর তীরের ব্লক ভেঙে নিচে নেমে যাচ্ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিশাল একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।‘
স্থানীয় বাসিন্দা হবিবর রহমান বলেন, ‘প্রত্যেকবার আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। আমার বাড়িঘর ও জমি কয়েকবার নদীতে চলে গেছে। এখন কোনো রকমে বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়ে আছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট জমিও নদীতে চলে যাবে।’
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। যেসব এলাকায় ভাঙন হয়েছে, সেসব এলাকায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। অন্যদিকে আমরা যেসব জায়গায় কাজ করেছি, সেসব জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মেরামত করে দিচ্ছি।’