পাবনার বেড়া উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও তার হাত-পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিকদলের এক নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আহত মিজানুর রহমান (৪০) বেড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলহাজ মনজেল খানের ছেলে। তিনি হোটেল ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে অভিযোগের তীর সাঁথিয়া উপজেলার করমজা সরদারপাড়া গ্রামের পাশা সরদারের ছেলে রিপন সরদারের (৩৫) দিকে। তিনি উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেড়া পৌরসভার সি অ্যান্ড বি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মার্কেট নির্মাণ করছেন দুই ভাই গোলাম মোস্তফা ও মিজানুর রহমান। গত ১৯ জুন রিপন সরদার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে গিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরদার ও তার সহযোগীরা মোটরসাইকেলে এসে মিজানুর রহমানকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মহরম সরদারের অফিসে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মারধরের সময় মিজানুর রহমানের হাতে থাকা প্রায় দেড় ভরি ওজনের দুটি সোনার আংটি ও নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মারধরে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে বলে দাবি পরিবারের। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাইপ দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের বিভিন্ন সদস্যর কাছে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। সম্প্রতি আবারও চাঁদা চাওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার দুটি সোনার আংটি ও নগদ টাকাও নিয়ে গেছে।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয় এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি মুচলেকাও নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তারা আবার চাঁদা দাবি শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন সরদার। তিনি বলেন, ‘ওরা আগে আমাকে মারধর করেছে, তাই আমিও মারছি। এর আগে ওরা সেনাবাহিনীর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। বরং ওদেরই শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে ওদের এক ভাই আমার কাছে এসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলেছিল, কিন্তু তারা সেটি করেনি। আমার লোকজন দুই-একটা বাড়ি দিয়েছে, এটা নিয়ে মিথ্যা কথা বলে লাভ নেই। তবে চাঁদা দাবি, সোনার আংটি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এসব নেইনি এবং এ ধরনের রাজনীতিও করি না। ওরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বলেই আজ এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’