আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অমান্য করে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে একদল মানুষকে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার হাকিমপুর সীমান্তের বিপরীতে বাংলাদেশের কলারোয়া উপজেলার কাকডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় এই অপতৎপরতা চালানো হয়।
তবে বিএসএফের এই পুশইনের চেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আর এ জন্য সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বাহিনীটির সদস্যরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুসারে, হাকিমপুর সীমান্তের একটি শেল্টার হোমে বর্তমানে নারী ও শিশুসহ ১৮০ জন ব্যক্তিকে বিএসএফের হেফাজতে রাখা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) সকাল পর্যন্ত নতুন করে আরও ৭০ জন সেখানে যুক্ত হন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করছিলেন।
এখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, বিএসএফের পুশইন অপতৎপরতা রুখে দিতে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। রাতভর টহল দেওয়ার সময় বিজিবির কঠোর ও সতর্ক অবস্থান টের পেয়ে বিএসএফ আর পুশের সাহস পায়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তের যেকোনো পাশ বা অরক্ষিত পয়েন্ট দিয়ে এই পুশইনের চেষ্টা করতে পারে তারা। তবে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং অত্যন্ত সতর্ক রয়েছি। দেশের মাটিতে কোনো অবস্থাতেই এই বেআইনি পুশইন হতে দেওয়া হবে না।’