পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়ে সাত বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে কম রাজস্ব আয় করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। তিনটি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও ইজারাদার পাওয়া গেছে মাত্র দুটির। এতে সর্বোচ্চ দর জমা পড়েছে মোট ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। বাকি একটি হাটের জন্য কোনো দরপত্রই জমা পড়েনি।
গত মঙ্গলবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। গত বছরের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিটি করপোরেশন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। উল্লেখ্য, গত বছর পশুর হাটের দরপত্র জমাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।
চসিক সূত্র জানায়, এবার সবচেয়ে বেশি দর উঠেছে নূর নগর হাউজিং অস্থায়ী পশুর হাটে। নগরের এক কিলোমিটার এলাকার এই হাটের জন্য সর্বোচ্চ দর এসেছে ২ কোটি ১২ লাখ টাকা। চসিকের প্রত্যাশিত দর ছিল ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। হাটটির জন্য মোট চারটি দরপত্র জমা পড়ে।
অন্যদিকে, উত্তর পতেঙ্গার মুসলিমাবাদ সড়কের সিআইপি জসিমের খালি মাঠের হাটের জন্য দর পড়েছে মাত্র ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এ হাটের ভিত্তিমূল্য ছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা এবং মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়ে। নগরের পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া পশুর হাটের জন্য কোনো দরপত্র জমা পড়েনি।
উল্লেখ্য, অস্থায়ী পশুর হাটের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের পর এবারই সবচেয়ে কম দর জমা পড়েছে। ২০২০ সালে কোভিড পরিস্থিতির কারণে তিনটি হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই তিন হাট ইজারা দিয়ে আয় হয়েছিল ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
২০২১ সালেও কোভিড পরিস্থিতির জন্য তিনটি হাট বসেছিল। তখন আয় হয়েছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিগত সাত বছরের মধ্যে অস্থায়ী হাট থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করেছিল ২০২৪ সালে। ওইবার সাতটি হাট থেকে সিটি করপোরেশন রাজস্ব পেয়েছিল ৫ কোটি ৬ লাখ টাকা।
২০২৩ সালে ৭টি হাট ইজারা দিয়ে আয় হয়েছিল ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং ২০২২ সালে মাত্র তিনটি হাট থেকেই রাজস্ব পেয়েছিল ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সবশেষ গত বছর পাঁচটি পশুর হাট থেকে চসিকের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সে সময় সব কটি হাটের ইজারা পেয়েছিলেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
ইজারাদারদের অভিযোগ, অনুমোদনের পর সব হাটের জন্য বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া। নগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন পশুর খামারে কোরবানি গরু বিক্রি এবং নগর ও নগরের প্রবেশমুখে অবৈধ হাট বসার কারণে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো নিয়ে প্রতিযোগিতা কমেছে। তাই সিটি কর্পোরেশনের আয় কমছে।
এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসাতে চেয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। তবে জেলা প্রশাসন অনুমোদন দেয় ছয়টি হাটের।
ছয়টি হাটের অনুমোদন পেলেও সিটি কর্পোরেশন ইজারাদার নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তিনটি হাটে। অন্য তিনটি হাটের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়নি।
জেলা প্রশাসনের অনুমোদন থাকলেও ইজারা বিজ্ঞপ্তি না দেওয়া হাটগুলো হচ্ছে উত্তর পতেঙ্গার পূর্ব হোসেন আহম্মদপাড়া সাইলো সড়কের পাশে টিএসপি মাঠ, আউটার রিং রোডের সিডিএ বালুর মাঠ এবং মধ্যম হালিশহরের মুনিরনগর আনন্দবাজার–সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি মাঠ।
ইজারাদারদের অভিযোগ, ‘পছন্দের’ ব্যক্তিদের হাটগুলো তুলে দিতে চায় সিটি কর্পোরেশন। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই এসব হাটের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। ফলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকায় প্রত্যাশিত দর পাওয়া যাচ্ছে না এবং এভাবে হাটগুলো পছন্দের ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজস্ব হারাবে সিটি করপোরেশন।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, এসব হাটের ইজারাদার কে হবেন তা নির্ভর করছে মেয়র ডা. শাহাদাতের পছন্দের ওপর। তিনি যাকে দিতে চাইবেন সেই হাটের ইজারাদার হবেন। তার পছন্দের বাইরে গিয়ে হাটের ইজারা নেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের ইজারা দিতেই গড়িমসি করা হচ্ছে। মেয়রের পছন্দের বাইরে গিয়ে হাটের ইজারা পাওয়ার সুযোগ নেই।
সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, গত বছর এই তিনটি হাটের জন্য ৫১টি দরপত্র ফরম জমা পড়েছিল। হাটগুলো থেকে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এসব বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রাহ্মান সানির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভি করেননি।