কোনো প্রকার ঘুষ, তদ্বির বা দালাল চক্রের সহযোগিতা ছাড়াই মাত্র ১২০ টাকা সরকারি ফি দিয়ে মানিকগঞ্জে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ২৬ জন। শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই চাকরি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের এই যোগ্য প্রার্থীরা।
সোমবার (১৮ মে) রাতে মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম। এসময় পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় শারিরিক সক্ষমতা, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যতমদের বেছে নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচিতদের মধ্যে সিংহভাগই অত্যন্ত সাধারণ এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তান। মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হয় ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা। জেলায় কনস্টেবল পদে শূন্য ছিল ২৬টি। এর বিপরীতে অনলাইনে আবেদন করেন ১ হাজার ৩২৯ জন চাকরি প্রত্যাশী।
আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ৯৬০ জন প্রার্থী শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে বিভিন্ন ধাপের বাছাই শেষে ২৬৫ জন লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। লিখিত পরীক্ষায় সফল হন ৪৫ জন। এরপর মৌখিক পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ২৬ জনকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়।
ফলাফল ঘোষণা শেষে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম যে, একটি টাকাও কাউকে বাড়তি দিতে দেব না। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। যারা আজ নির্বাচিত হয়েছেন, তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতায় এসেছেন। যোগ্য ও মেধাবীদেরই আমরা বাছাই করেছি। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে সৎ ও দক্ষ সদস্য যুক্ত হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি, মাত্র ১২০ টাকায় চাকরি পেয়ে তারা যেভাবে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন, তেমনি আগামী দিনে দেশের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখে মানিকগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করবেন।’