কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জহির ইসলাম ওরফে ‘জহির হিজড়া’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব জানায়, মাদকের টাকা ভাগাভাগির জেরে মাহিকে হত্যা করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ১৩ মে ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লার বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (২৯) এবং অভিযুক্তরা একই বাসায় বসবাস করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা মাহির হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাহির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ মে রাত ১১টা ২০ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এবং র্যাব-৬ সিপিসি-১ এর যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভোমরা এলাকা থেকে প্রধান আসামি জহির ইসলাম ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে র্যাব জানতে পেরেছে, নিহত ও অভিযুক্তরা সবাই তৃতীয় লিঙ্গের এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেছে র্যাব। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার করা আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।