দেশজুড়ে মাগুরার লিচুর ব্যাপক সুনাম রয়েছে। ভৌগোলিক নির্দেশক (জি আই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর খ্যাতি বেড়েছে আরও কয়েক গুন। এরই মধ্যে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে উঠতে শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ফল। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় লিচুর ফলন কিছুটা ভিন্নতর হলেও সামগ্রিকভাবে সন্তোষজনক উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মাগুরার সদর উপজেলায় গড়ে উঠেছে তিন হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক লিচু বাগান, যা এ অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর চাষও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
জেলার কোথাও বাম্পার ফলন, আবার কোথাও কিছুটা কম উৎপাদন হয়েছে। তবুও এবছর ভালো দাম পাওয়ার আশায় চাষিদের মুখে রয়েছে স্বস্তির হাসি।
বাগান মালিক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আগাম লিচুর দাম সন্তোষজনক রয়েছে। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হলে এ বছর লাভজনক একটি মৌসুম পার করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশি লিচু প্রতি শত বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, যা চাষিদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলায় এ বছর ৫৩১ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৫ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
মাগুরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “এ বছর লিচুর উৎপাদন মোটামুটি ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে চাষিরা আরও লাভবান হবেন।”