গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত একজন আহত হয়ে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বজরা কঞ্চিবাড়ী মৌজার একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাদী ও বিবাদীপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর উপজেলা ভূমি অফিস সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৬৫৬ নং দাগের মোট ৩৮ শতক জমির মধ্যে বাদীপক্ষ ১২ শতক এবং বিবাদীপক্ষ ২৬ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রয়েছে। এছাড়া বাদীপক্ষের দখলকৃত অংশ স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতে শুনানি চলমান থাকা অবস্থায় বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় জামায়াতে ইসলামী কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন শাখার আমির সাজ্জাদুর রহমান সাজুর নেতৃত্বে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নুর আলম বিএসসি এবং ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলাম দলবল ও স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, বিবাদীপক্ষ ইউনিয়ন আমিরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-ধামকি ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তারা। এমনকি ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলামের কাছে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও আরও টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এতে নারী ও শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাদের মধ্যে রাজা ভূঁইয়া (৬৭) একজন গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে ইউনিয়ন আমির, সেক্রেটারি ও ওয়ার্ড সভাপতি রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়— এমন নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার থানা আমিরকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।