কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) নামের এক কথিত পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদের হুকুমে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি ও আবেদের ঘাট এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক সাফিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জন দরবার শরিফে হামলা চালায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘এখনো এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়াও অনেকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এজাহারে বাদী ফজলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, আব্দুর রহমান শামীম ঘটনার দিন নিজ দরবার শরিফ ছিলেন। এ সময় আসামি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদের নির্দেশে এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দরবার শরিফে প্রবেশ করে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়।
আরও বলা হয়, এ সময় আসামি রাজিব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমান শামীমের কোমর ও মাথায় আঘাত করেন ও অন্যান্য আসামিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও মারধর করেন। শামীমের চিৎকারে দরবারের পরিচারিকা জামিরুন নেছা এগিয়ে এলে আসামি আসাদুজ্জামান তাকেও কোপাতে উদ্যত হন। তিনি বাঁ হাত দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তার কবজির ওপরের অংশ গুরুতর জখম হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। পাশাপাশি স্টিলের আলমারি ভেঙে পাঁচ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ অভিযোগ অস্বীকার করে নাগরিক প্রতিদিনকে জানান, ঘটনার দিন দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুসল্লি ও এলাকাবাসী মিলে বসে বিষয়টি আইনিভাবে সমাধানের আলোচনা চলছিল। তবে হঠাৎ ফেসবুকে একটি মিছিলের ছবি দেখে তিনি নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টুকে ফোন করে সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, কিছুক্ষণ পর সান্টু (ফজলুর রহমান) তাকে ফোনে জানান যে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়েছে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে সান্টু তাকে সেখানে না গিয়ে হাসপাতালে যেতে পরামর্শ দেন।
খাজা আহম্মেদ আরও জানান, পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবুও তাকে কেন এ মামলায় আসামি করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয়।
এ ব্যাপারে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঘটনাটি মূলত গণপিটুনির, এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের দলের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমানে দায়ের হওয়া মামলাটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার বিষয়।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে কথিত পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।