কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবা নামে এক কথিত পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তার পরিবার কোনো মামলা করবে না। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নাগরিক প্রতিদিন-কে নিশ্চিত করেছেন নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেলে দাফনের পর রাতে পরিবারের সদস্যরা বসেছিলাম। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। তারা মামলার জন্য বারবার বলেছেন। কিন্তু, আমরা সবাই মিলে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বয়স হয়েছে। এসব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার সামর্থ্য আর নেই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান নাগরিক প্রতিদিন-কে বলেন, তারা মামলা করবেন না, এমন কিছু শুনিনি। মামলার জন্য আজ তাদের থানায় আসার কথা।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় দরবার শরিফে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত শামীম ওই দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তার তিন অনুসারী মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত শেষে বিকেল ৫টায় পূর আব্দুর রহমান শামীমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন করা হয়।
এদিকে এই ঘটনার পর ওই এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাউল সংগীত শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে শফি মন্ডলের মেয়ে লিনা মন্ডল বলেন, ‘আমার বাবা সাধক শিল্পী, সংগীতের জন্য মুলত তিনি বিভিন্ন দরবারে যান। ফিলিপনগর আমাদের বাড়ি। যার কারণে তিনি এই দরবারে গিয়েছিলেন। ওই সময়ের ছবি ভিডিও আছে। যে ভিডিও ভাইরাল করে মব তৈরি করে শামীমকে হত্যা করা হলো। সেই ভিডিওতে আমার বাবাও আছে। আমার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী একজন মানুষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা লালন অনুসারী বা লালন দর্শন বিশ্বাস করি। সারাবিশ্বে তিনি লালন সাঁইজির বানীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন এই মতের সাথে তো অন্য ধারনার মানুষের মিল নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল সম্পর্কে ধ্যাণ করি। আমাদের জীবন আচরণ অবশ্যই ইসলামিক তবে আমরা সাঁইয়ের ধারাই লালন করি। যেহেতু ওই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে, যে ছবিতে আমার বাবা আছেন। মব জাস্টিসের সঙ্গে জড়িতরা সেটি ভাইরাল করেছে। আমার বাবা একজন দেশবরেণ্য শিল্পী। যার কারণে সরকার মনে করেছেন তার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’