ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন শতাধিক। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নদীবেষ্টিত গোয়ালনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের মধ্যে হাবিবউল্লাহ (৪০) স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন। নিহত অন্যজন আক্তার মিয়া প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই এই সহিংসতার সূত্রপাত। ওই সময় এক ব্যক্তিকে আটক ও দণ্ড দেওয়ার ঘটনায় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর একাধিক দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সর্বশেষ সংঘর্ষটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। উভয়পক্ষ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন জড়ো করে টেটা, বল্লম ও তীর-ধনুকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি শুধু একটি গ্রামে সীমাবদ্ধ না থেকে আশপাশের একাধিক গ্রাম ও ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরেই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ মার্চ একই বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন, যা বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।