কক্সবাজারে বিস্ফোরণ
কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় নতুন স্থাপিত একটি এলপি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস লিকেজ এখনো বন্ধ হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডে ফিলিং স্টেশনটির আশপাশের অন্তত ১০টি বসতবাড়ি ও পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত ২০ থেকে ২৫টি জিপ গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। দগ্ধরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের পরপরই গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রথমে লিকেজ নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও রাত ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটসহ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার মোট ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্যাস নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি।
এ ঘটনায় দগ্ধরা হলেন—চকরিয়ার সিকদার পাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে সাকিব (২৪), রামুর জোয়ারিয়ানালার আবুল হোসেনের ছেলে মো. সিরাজ (২৪), কলাতলীর মৃত জাকারিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪৫), আদশগ্রামের আবদু রশিদের ছেলে মোতাহের (৪৫), কক্সবাজার পৌরসভার বাহারছড়ার কালামিয়ার ছেলে কামরুল হাসান (৩০), আবু তাহের (৪৫), মেহেদী (২৬), খোরশেদ আলম (৫৩) ও টিটন সেন (৪০)।
দগ্ধদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে এবং দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গুরুতর দগ্ধ আব্দুর রহিম ও আবু তাহেরের শরীরের ৯০-৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবু সাইদ।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল আবাসিক এলাকায় গ্যাস পাম্প স্থাপন করাই ছিল বড় ঝুঁকি, যা এ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা ও যানবাহন পুড়ে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইমরান জানান, সন্ধ্যা ৭টা থেকেই পাম্পটি থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। তিন ঘণ্টা ধরে গ্যাস বাতাসে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে আতঙ্কিত লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
তিনি আরও বলেন, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে পাম্পের কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল সংলগ্ন আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক দেখা দেয় এবং মানুষ দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের দাবি, গ্যাস পাম্পটি স্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে।