ওবামা-বাইডেনেরও এক্স হ্যাক হয়েছিল
ডিজিটাল যুগে রাজনীতি যতটা জনমুখী হয়েছে, ততটাই ঝুঁকির মুখে পড়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনলাইন নিরাপত্তা। তারই এক বড় উদাহরণ ২০২০ সালে ঘটে যাওয়া আলোচিত এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যাক কাণ্ড, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেনসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বহু রাজনীতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়। সেই ঘটনায় শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি, বরং রাজনীতি, জনআস্থা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপরও এর গভীর প্রভাব পড়ে।
২০২০ সালের জুলাই মাসে হঠাৎ করেই বারাক ওবামা, জো বাইডেন, বিল গেটস, ইলন মাস্কসহ শতাধিক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের টুইট প্রকাশ পেতে থাকে। টুইটগুলোতে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট একটি বিটকয়েন ঠিকানায় অর্থ পাঠালে দ্বিগুণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধান—সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন, কীভাবে এক্সের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে এমন অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক হলো।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে জো বাইডেনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী। বিশ্লেষকদের মতে, যদি হ্যাকাররা আর্থিক প্রতারণার বদলে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া বার্তা দিত, তাহলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারত।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। তিনি তখনো বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর।
ঘটনার পরপরই এক্স জানায়, এটি কোনো সাধারণ হ্যাক নয়; বরং তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করে কর্মীদের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কিশোর ও তরুণকে গ্রেপ্তার করে, যারা এই সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। এক্স কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মালিকদের মধ্যে অন্যতম জো বাইডেন পরবর্তীতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ফলে অনেকের কাছেই এই ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতি, রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি আরও বেশি অনলাইননির্ভর হবে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে এমন হ্যাক কাণ্ড আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ওবামা-বাইডেনদের এক্স হ্যাক কাণ্ড ইতিহাসে একটি সতর্কবার্তা হয়ে আছে। এটি দেখিয়েছে একটি টুইট শুধু মতামত নয়, কখনো কখনো তা রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, জনগণের আস্থা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যও নড়বড়ে করে দিতে পারে। ফলে ডিজিটাল যুগের রাজনীতিতে তাই সাইবার নিরাপত্তা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি একেবারে মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।