ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিভিন্ন দেশকে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যথায় পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে।
তবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এখনই দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ ছয় মাসের কাছাকাছি পৌঁছানোর মুখে গতকাল সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর ‘অর্থনৈতিক আক্রমণ’ শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে কোন কোন দেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বা এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে রাজি হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ৬০টি ব্যক্তি, সংস্থা ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেও সেই তালিকায় ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করার অভিযোগে অভিযুক্ত চীনের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ‘আমি কেন বিশ্বব্যাপী আর্থিক ব্যবস্থা ধসিয়ে দিতে যাব? আমরা মনে করি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সংশ্লিষ্টদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া প্রয়োজন। তবে তাদের জানা উচিত, ব্যবস্থা খুবই দ্রুত নেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কঠোর।’
কয়েক বছর ধরেই ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ওয়াশিংটন চীনা কেনাকাটা বন্ধে নজরদারি বাড়ালেও দেশটির ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া থেকে এখন পর্যন্ত বিরত রয়েছে।
চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে বেসেন্ট বলেন, ‘তারা যদি এই লেনদেনে সুবিধা দেয় এবং যে ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের তেল অর্থ ও দমনপীড়নে রূপ নেয়, তার অংশ হয়, তাহলে তাদের অবশ্যই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’