ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের মধ্যে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, গতকাল বুধবার রাতভর কিয়েভের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক ভবন ও গুদাম লক্ষ্য করে আঘাত হানে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে একটি শিশু হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আকাশ, স্থল ও সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির কারণেই এসব প্রাণহানি ঘটেছে। ইউক্রেন এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য পশ্চিমা মিত্রদের ওপর নির্ভরশীল।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের কাছে পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা না থাকা পর্যন্ত রাশিয়া শান্তির বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাববে না।
‘প্যাট্রিয়টের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখনো পূরণ করা হয়নি। অথচ এগুলো প্রতিদিনই প্রয়োজন। প্রতিটি অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র আমাদের জনগণের জীবন বাঁচায়।’
রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে আসছে ইউক্রেন।
তবে ইরান যুদ্ধে নিজেদের মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে ইউক্রেনে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, রাতভর ব্যবহৃত রাশিয়ার কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি।
ইউক্রেনের আইনপ্রণেতা ওলেক্সি গনচারেঙ্কো বিবিসি রেডিও ৪-এর টুডে অনুষ্ঠানে বলেন, ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়া তার দেশ ‘কিছুই করতে পারে না’।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দেশটির শহরগুলো ‘সম্পূর্ণ অরক্ষিত’ হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গনচারেঙ্কো বলেন, ‘রাশিয়া এই সুযোগে যতটা সম্ভব অবকাঠামো ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কারণ এসব ইন্টারসেপ্টর না থাকায় প্রতিদিন আমাদের মানুষ মারা যাচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোর জন্য জেলেনস্কির নতুন করে এই আহ্বান এমন সময় এলো, যখন তিনি জনপ্রিয় সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
ফেদোরভ এরই মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, দুর্নীতির কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় অস্ত্র থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।