ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলে আজ শনিবার সকালে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কে ঘুম থেকে জেগে উঠে বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হন।
তবে ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। ধুলোয় আকাশ ঢেকে যাওয়ার মধ্যে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের চিৎকার করতে করতে ছোটাছুটি করতেও দেখা যায়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর একাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সমুদ্রসৈকত থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করে, যা পরবর্তীতে তুলে নেওয়া হয়।
ইউএসজিএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, এদিন সকালে প্রায় ৫ লাখ মানুষ তীব্র কম্পনের মুখে পড়েন। এ ধরনের কম্পনে মজবুতভাবে নির্মিত স্থাপনায় সামান্য থেকে মাঝারি ক্ষতি হতে পারে। আর দুর্বলভাবে নির্মিত ভবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সবুজে ঘেরা ও পাহাড়ি দ্বীপ ফ্লোরেসজুড়ে শনিবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সুন্ডা দ্বীপপুঞ্জের এই অঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বালিও রয়েছে।
রঙিন আগ্নেয়গিরির হ্রদের জন্য পরিচিত ফ্লোরেস দ্বীপ কোমোডো ন্যাশনাল পার্কে যাওয়ার অন্যতম প্রবেশদ্বার। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকটিকি কোমোডো ড্রাগনের আবাস এই পার্কে।
প্রায় ২০ লাখ মানুষের এই দ্বীপের অধিকাংশ বাসিন্দাই ছোট ছোট গ্রামে বসবাস করেন।