দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কেপপ ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিনা চ্যান আত্মহত্যা করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ২৬ বছর। তবে ঘটনাটির তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ। সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপপ ব্যান্ড এনহাইপেন-এর ভক্ত হিসেবে পরিচিত মিনা চ্যানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮০ হাজারের বেশি অনুসারী ছিল। গত ৫ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের বাসা থেকে টিকটকে লাইভ সম্প্রচার করছিলেন তিনি। লাইভ চলাকালে তার আচরণ দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন অনেক দর্শক। পরে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে সহায়তার অনুরোধ জানান।
দ্য কোরিয়া হেরাল্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, মিনা চ্যানের এক পরিচিত ব্যক্তির ফোন পেয়ে পুলিশ সিউলের ইয়ংসান-গুর হানগাংনো-ডং এলাকায় তার বাসায় যায়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
মিনার মৃত্যুর পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়, ‘মিনা সবার প্রতি সবসময়ই আন্তরিক ছিলেন। তিনি আর আমাদের মাঝে নেই। সবাইকে অনুরোধ করছি, তাকে আপনাদের প্রার্থনায় স্মরণ রাখবেন।’
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে টিকটক থেকে ওই লাইভ সম্প্রচারটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৃত্যুর কয়েকদিন আগে একটি এনহাইপেন কনসার্টে তার আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মিনা চ্যান। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যান্ডের সদস্য সুনুকে দিয়ে আরেক সদস্য নি-কির কাছে ফুল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা অনেক ভক্তের কাছে নিজেকে আলোচনায় আনার প্রচেষ্টা বলে মনে হয়েছিল।
সমালোচনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিনা চ্যান ক্ষমা চেয়ে লিখেছিলেন, ‘আমার আচরণে মনে হয়েছে আমি সুনুর আন্তরিকতার সুযোগ নিয়েছি। এজন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। সুনু এবং তার ভক্তদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। এনহাইপেনের একাধিক ফ্যান সাইনিং অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিতে আমি ভুলভাবে ভাবতে শুরু করেছিলাম যে সদস্যদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ।’