পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এতে আহত হয়েছেন আরও ৫৭০ জনেরও বেশি মানুষ।
কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা (এসজিসি)-র তথ্য মতে, স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমারের কাছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯৬ কিলোমিটার গভীরে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৩২টি শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচটি বিভাগীয় রাজধানী—পেরেইরা, কালি, কুইবদো, মানিজালেস ও আরমানিয়া—রেড অ্যালার্টের অধীনে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেইরায় ৬০ জন, এরপর কালিতে ১৫ জন, কুইবদোতে আট জন এবং মানিজালেসে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধার কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
মোট ৮৬টি ভবন ধসে পড়েছিল এবং ভূমিকম্পজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে সাতটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, অনেক মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বলেছিলেন, ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার দেশব্যাপী দুর্যোগ অবস্থা ঘোষণা করেছে।
কলম্বিয়ায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস সোমবার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পরপরই তারা জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং দেশজুড়ে চীনা নাগরিকদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। দূতাবাস আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো চীনা নাগরিকের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: সিনহুয়া