থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলি
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর প্রথমে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর একটি স্কুলে গিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে আরও কমপক্ষে ছয়জনকে হত্যা করে। পরে সে নিজের মাথায় গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শুক্রবারের এ ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামলাকারী কিশোরও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
২০২২ সালের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হত্যার ঘটনা।
রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমে ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে এদিন আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সেসময় আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল। শিক্ষকেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জরুরি সেবাকর্মীদের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, আহত একজনকে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়েছে। আরেকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোর অন্তত ২৬টি গুলি ছোড়ে। তার কাছ থেকে আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি হামলাকারীর দাদার ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্কুলের ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন বাইরে কেউ আতশবাজি ফাটাচ্ছে বা কোনো কিছু জোরে আঘাত করছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমার মনে হয়নি যে, এটি বন্দুকের গুলির শব্দ। একের পর এক গুলির শব্দ হচ্ছিল। এরপর কিছুক্ষণ চুপচাপ। তারপর আবার গুলি শুরু হয়।’
থাইল্যান্ডের জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ট্রাইরং ফোফান রয়টার্সকে জানান, স্কুলে নিহত সাতজনের মধ্যে সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
চলতি বছরে থাইল্যান্ডে স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা এনিয়ে দ্বিতীয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় এক শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হন।
শুক্রবারের ঘটনা সম্পর্কে ৪৭ বছর বয়সী জরুরি সেবাকর্মী কিয়াতিখুন ভেরাপংপ্রাদিত বলেন, গুলিবর্ষণ চলাকালেই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার দল পিঠ, বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেয়।
তিনি জানান, স্কুলের ওপরের একটি তলায় তারা এক পুরুষ শিক্ষককে মৃত অবস্থায় পান। অন্য একটি কক্ষে বুক ও হাতে গুলিবিদ্ধ এক নারী শিক্ষককে উদ্ধার করেন।
কিয়াতিখুন বলেন, ‘আমরা দ্রুত ওপরে উঠে দেখি, হামলাকারী নিজের মাথার ডান পাশে গুলি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। আমরা তার নাড়ি পরীক্ষা করে দেখি, স্পন্দন আছে। এরপর তাকে সিপিআর দেওয়া শুরু করি।’
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান এই সেবাকর্মী।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ১০০ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৪৭ জন।
মর্মান্তিক এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটা ভয়াবহ। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’